সহবাস
স্ত্রী সহবাসের ইসলামিক নিয়ম
স্বামী-স্ত্রীর সহবাসের নিয়ম ও আদব
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও ঘনিষ্ঠতাকে বৈধ এবং প্রশংসনীয় করেছে। তবে এই সম্পর্কে কিছু শিষ্টাচার ও নিয়ম মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে দাম্পত্য জীবন আরও সুন্দর ও বরকতময় হয়।
১. সহবাসের আগে নিয়ত ও দোয়া
সহবাস শুধুমাত্র দেহের চাহিদা পূরণের জন্য নয়, বরং এটি একটি ইবাদতও। তাই সহবাসের আগে এই দোয়া পড়া উচিত—
اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
উচ্চারণ:
"আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা, ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রযাকতানা।"
অর্থ:
"হে আল্লাহ! আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদের যা দান করবেন তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।"
২. পারস্পরিক সম্মতি ও ভালোবাসা
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও সম্মতি থাকা জরুরি। জোরপূর্বক বা অসন্তুষ্টির সাথে সহবাস করা উচিত নয়। আল্লাহ কুরআনে বলেছেন—
"তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।" (সূরা বাকারা: ১৮৭)
৩. শারীরিক পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধি ব্যবহার
সহবাসের আগে ও পরে উভয়ের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর পরিবেশ ও সুগন্ধি ব্যবহার ভালোবাসা বৃদ্ধি করে।
৪. মুখোমুখি কথা বলা ও রোমান্স করা
শুধু সহবাস নয়, বরং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে আদর করা, প্রশংসা করা ও ভালোবাসার কথা বলা উচিত। নবী করিম (সা.) নিজেও স্ত্রীদের সাথে মিষ্টিভাবে কথা বলতেন।
৫. শালীনতা বজায় রাখা ও অশ্লীলতা এড়িয়ে চলা
ইসলাম অশালীন ও অশ্লীল কার্যকলাপ নিষেধ করেছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শালীনতা বজায় রেখে ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত।
৬. নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ সময় ও নিয়ম মেনে চলা
ইসলাম কিছু নির্দিষ্ট সময় ও পদ্ধতিতে সহবাস নিষিদ্ধ করেছে—
ঋতুস্রাব চলাকালে সহবাস নিষিদ্ধ (সূরা বাকারা: ২২২)।
রমজানের রোজার সময় দিনের বেলা সহবাস করা যাবে না।
প্রাকৃতিকভাবে নিষিদ্ধ স্থানে সহবাস করা হারাম।
৭. সহবাসের পরে গোসল করা জরুরি
গোসল ফরজ হয়ে যায়, এবং এটি ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়।
গোসলের পদ্ধতি:
প্রথমে বিসমিল্লাহ বলে নিয়ত করতে হবে।
প্রথমে হাত ধুতে হবে, তারপর গোপনাঙ্গ পরিষ্কার করতে হবে।
ওজুর মতো ওজু করতে হবে।
তারপর মাথায় তিনবার পানি ঢালতে হবে।
পুরো শরীর ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
৮. পরস্পরের প্রতি যত্নশীল হওয়া
সহবাসের পর পরস্পরের প্রতি যত্নশীল হওয়া ও ভালোবাসা প্রকাশ করা উচিত। এতে দাম্পত্য সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
৯. গোপনীয়তা রক্ষা করা
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত ব্যক্তিগত। এটি অন্য কারও সামনে প্রকাশ করা বা আলোচনা করা নিষেধ। নবী (সা.) বলেছেন—
"সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তি হলো সে, যে তার স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করে এবং পরে তা প্রকাশ করে।" (সহিহ মুসলিম)
১০. সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা
স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য পরস্পরকে খুশি রাখা জরুরি। একপক্ষ খুশি না থাকলে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা ও দাম্পত্য জীবন সুন্দর রাখতে ইসলামিক নিয়ম মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, ভালোবাসা প্রকাশ করা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বজায় রাখা হল সুন্দর দাম্পত্য জীবনের মূল চাবিকাঠি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শান্তিপূর্ণ ও সুখী দাম্পত্য জীবন দান করুন। আমিন।