স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে যে কাজগুলো করা যাবে না
স্বামী-স্ত্রীর সহবাস
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। দাম্পত্য জীবনের এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ইসলাম পবিত্রতা ও সৌন্দর্যের সাথে সংরক্ষিত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে। তাই স্বামী-স্ত্রীর সহবাসে কিছু কাজ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, যা করা উচিত নয়। এসব নিয়ম মানলে দাম্পত্য জীবন সুখী ও বরকতময় হয়।
---
১. ঋতুস্রাব চলাকালে সহবাস করা নিষিদ্ধ
ইসলাম নারীর ঋতুস্রাবকালীন সময়কে বিশ্রামের সময় হিসেবে বিবেচনা করে। এই সময় সহবাস করা হারাম। আল্লাহ বলেন—
"তারা তোমাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, এটি অপবিত্র। সুতরাং তোমরা ঋতুবতী নারীদের থেকে দূরে থাকো এবং তারা পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাস করো না।" (সূরা বাকারা: ২২২)
তবে এই সময়ে ভালোবাসার অন্যান্য প্রকাশ যেমন—আদর, স্নেহ, আলিঙ্গন করা ইত্যাদি জায়েজ।
---
২. পায়ুপথে সহবাস করা হারাম
ইসলামে এটি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এবং অত্যন্ত গুনাহের কাজ। নবী মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন—
"যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস করে, সে আল্লাহর অভিশাপপ্রাপ্ত।" (আবু দাউদ)
---
৩. রোজার দিনে দিনের বেলায় সহবাস করা যাবে না
রমজানের সময় দিনের বেলায় সহবাস করা হারাম। রোজা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী যদি সহবাস করে, তবে তাদের রোজা ভেঙে যাবে এবং কাফফারা দিতে হবে। তবে ইফতারের পর থেকে সেহরির আগ পর্যন্ত বৈধভাবে সহবাস করা যায়।
---
৪. হজ বা ইহরাম অবস্থায় সহবাস করা যাবে না
যখন কেউ হজ বা উমরার ইহরামে থাকে, তখন স্বামী-স্ত্রীর সহবাস করা নিষিদ্ধ। যদি কেউ এই সময় সহবাস করে, তবে তাদের হজ নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাফফারা দিতে হবে।
---
৫. প্রকাশ্যে বা অন্য কারও সামনে সহবাস করা সম্পূর্ণ হারাম
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত ব্যক্তিগত। এটি কখনোই অন্যের সামনে প্রকাশ করা যাবে না। নবী (সা.) বলেছেন—
"তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তি হলো সে, যে তার স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন করে এবং পরে তা অন্যদের সামনে প্রকাশ করে।" (সহিহ মুসলিম)
---
৬. পর্নোগ্রাফি দেখে উত্তেজিত হওয়া ও হারাম চিন্তা করা
পর্নোগ্রাফি দেখা বা হারাম চিন্তা করে সহবাস করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এটি ধীরে ধীরে মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি করে এবং বিবাহিত জীবনে অশান্তি আনে।
---
৭. অনিচ্ছায় বা জোরপূর্বক সহবাস করা যাবে না
স্বামী বা স্ত্রী—কেউই জোরপূর্বক সহবাস করতে বাধ্য করতে পারে না। নবী (সা.) বলেন—
"তোমাদের কেউ যেন স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে না পড়ে বরং তাকে ভালোবাসার মাধ্যমে প্রস্তুত করো।" (তিরমিজি)
---
৮. হারাম কল্পনা বা অন্য কাউকে কল্পনা করা
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য হালাল। কিন্তু সহবাসের সময় অন্য কাউকে কল্পনা করা সম্পূর্ণ হারাম ও গুনাহের কাজ।
---
৯. নোংরা বা অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করা
সহবাসের সময় অশ্লীল বা কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। ইসলাম শালীনতা ও সৌন্দর্যের শিক্ষা দেয়।
---
১০. সহবাসের পর গোসল না করে নামাজ পড়া বা কুরআন ছোঁয়া
সহবাসের পর স্বামী-স্ত্রীর জন্য গোসল করা ফরজ। এই অবস্থায় নামাজ পড়া বা কুরআন স্পর্শ করা নিষিদ্ধ।
---
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ইসলামে একটি পবিত্র ও মহৎ বন্ধন। এটি কেবল দেহের সম্পর্ক নয়, বরং আত্মিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক। তাই দাম্পত্য জীবন সুখী করতে হলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর দেওয়া নিয়ম মেনে চলা উচিত। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল ও বরকতময় জীবন দান করুন। আমিন।